🔥 ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ: রক্ত, সাহস আর স্বাধীনতার প্রথম আর্তনাদ
১৮৫৭ সালের ১০ মে—ভারতের ইতিহাসে এক দুঃসাহসিক ও রক্তাক্ত অধ্যায়ের সূচনা। অধুনা পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অন্যায় শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম আগুন জ্বলে ওঠে ভারতীয় সিপাহিদের হৃদয়ে। এই বিদ্রোহ ছিল শুধু অস্ত্রধারী সৈনিকদের প্রতিবাদ নয়, ছিল এক জাতির দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভের বিস্ফোরণ।
ক্রমে এই আগুন ছড়িয়ে পড়ে উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে—মিরাট, দিল্লি, কানপুর, লক্ষ্ণৌ, ঝাঁসি, গ্বালিয়রসহ অধুনা উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও মধ্যপ্রদেশে। গ্রাম থেকে শহর, প্রাসাদ থেকে কুঁড়েঘর—সর্বত্র শোনা যেতে থাকে স্বাধীনতার ডাক।
এই বিদ্রোহ ইতিহাসে পরিচিত ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ, মহাবিদ্রোহ, বা ১৮৫৭ সালের গণ-অভ্যুত্থান নামে। যদিও ব্রিটিশ শাসকরা একে নির্মমভাবে দমন করেছিল। নিরস্ত্র নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের উপর চালানো হয় অমানবিক অত্যাচার। বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়, রক্তে রঞ্জিত হয় ভারতীয় মাটি।
তবুও এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা আজও ভারতবাসীর হৃদয়ে অমর।
শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর,
অগ্নিযুগের বীর নানা সাহেব,
অদম্য তাতিয়া টোপি,
আর ইতিহাসের পাতায় অমর সাহসিনী ঝাঁসির রানি লক্ষ্মী বাঈ—যিনি প্রমাণ করেছিলেন, স্বাধীনতার জন্য নারীও তরবারি ধরতে জানে।
বেগম হযরত মহল, কুনওয়ার সিংসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ—বিশেষত অযোধ্যার তালুকদার ও মুসলিম গাজীরা—নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন দেশের সম্মানের জন্য।
অন্যদিকে, কিছু দেশীয় রাজ্য ও শক্তি ব্রিটিশদের পাশে দাঁড়ায়। পাঞ্জাবের শিখ রাজ্যগুলি ও কয়েকটি বড় দেশীয় রাজ্য বিদ্রোহে অংশ নেয়নি। এই বিভাজনই শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহকে দুর্বল করে তোলে।
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ সামরিকভাবে ব্যর্থ হলেও এর প্রভাব ছিল গভীর ও স্থায়ী।
১৮৫৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
ভারত সরাসরি ব্রিটিশ রানির অধীনে চলে যায়।
ভারতীয় সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও অর্থব্যবস্থা নতুনভাবে গঠিত হয়।
সবচেয়ে বড় কথা—
এই বিদ্রোহ ভারতীয়দের মনে স্বাধীনতার বীজ বপন করে।
এই রক্ত, এই ত্যাগই পরবর্তী প্রজন্মকে লড়াইয়ের পথে এগিয়ে দেয়।
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ: ১০০ প্রশ্ন–উত্তর
১. প্রশ্ন: সিপাহি বিদ্রোহ কী?
উত্তর: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সিপাহি ও জনগণের সশস্ত্র বিদ্রোহ।
২. প্রশ্ন: সিপাহি বিদ্রোহ কবে শুরু হয়?
উত্তর: ১৮৫৭ সালের ১০ মে বিদ্রোহের সূচনা হয়।
৩. প্রশ্ন: বিদ্রোহ প্রথম কোথায় শুরু হয়?
উত্তর: ব্যারাকপুর ও মিরাট অঞ্চল থেকে বিদ্রোহের আগুন ছড়ায়।
৪. প্রশ্ন: সিপাহি বিদ্রোহের আরেক নাম কী?
উত্তর: ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বা মহাবিদ্রোহ।
৫. প্রশ্ন: বিদ্রোহের প্রধান কারণ কী ছিল?
উত্তর: ব্রিটিশদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় অত্যাচার।
৬. প্রশ্ন: কোন কার্তুজ বিদ্রোহের তাত্ক্ষণিক কারণ ছিল?
উত্তর: গরু ও শূকরের চর্বিযুক্ত এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ।
৭. প্রশ্ন: কার্তুজ সমস্যা কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
উত্তর: এটি হিন্দু ও মুসলিম উভয় ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করেছিল।
৮. প্রশ্ন: বিদ্রোহের সময় ভারতের শাসক কে ছিলেন?
উত্তর: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে ব্রিটিশ শাসন চলছিল।
৯. প্রশ্ন: দিল্লিতে বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দেন?
উত্তর: মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর।
১০. প্রশ্ন: বাহাদুর শাহ জাফরের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: তিনি বিদ্রোহীদের প্রতীকী নেতা হিসেবে স্বীকৃত হন।
১১. প্রশ্ন: কানপুরে বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?
উত্তর: নানা সাহেব কানপুরে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন।
১২. প্রশ্ন: ঝাঁসির বিদ্রোহী নেত্রী কে ছিলেন?
উত্তর: ঝাঁসির রানি লক্ষ্মী বাঈ।
১৩. প্রশ্ন: লক্ষ্মী বাঈ কেন বিখ্যাত?
উত্তর: তিনি বীরত্বের সঙ্গে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন।
১৪. প্রশ্ন: লখনউ বিদ্রোহের নেত্রী কে ছিলেন?
উত্তর: বেগম হযরত মহল লখনউয়ের নেতৃত্ব দেন।
১৫. প্রশ্ন: বিহারে বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?
উত্তর: কুনওয়ার সিং বিহারের বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন।
১৬. প্রশ্ন: তাতিয়া টোপি কে ছিলেন?
উত্তর: তিনি বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান সামরিক সংগঠক।
১৭. প্রশ্ন: বিদ্রোহ কোন কোন অঞ্চলে ছড়ায়?
উত্তর: উত্তর ও মধ্য ভারত জুড়ে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
১৮. প্রশ্ন: কোন অঞ্চল বিদ্রোহ থেকে দূরে ছিল?
উত্তর: পাঞ্জাব, হায়দ্রাবাদ ও রাজপুতানার অনেক রাজ্য।
১৯. প্রশ্ন: শিখ রাজ্যগুলি কেন ব্রিটিশদের সমর্থন করে?
উত্তর: রাজনৈতিক স্বার্থ ও ব্রিটিশদের সঙ্গে চুক্তির কারণে।
২০. প্রশ্ন: বিদ্রোহে সাধারণ মানুষের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: কৃষক, তালুকদার ও সাধারণ মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
২১. প্রশ্ন: অযোধ্যায় বিদ্রোহ কেন তীব্র ছিল?
উত্তর: জমিদারি বিলোপ ও অত্যাচারের কারণে জনগণ ক্ষুব্ধ ছিল।
২২. প্রশ্ন: ব্রিটিশরা কীভাবে বিদ্রোহ দমন করে?
উত্তর: নির্মম সামরিক অভিযান ও গণহত্যার মাধ্যমে।
২৩. প্রশ্ন: বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশ সেনাপ্রধান কে ছিলেন?
উত্তর: স্যার কলিন কেম্বেল অন্যতম প্রধান সেনাপ্রধান।
২৪. প্রশ্ন: বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ কী?
উত্তর: নেতৃত্বের ঐক্যের অভাব ও আধুনিক অস্ত্রের ঘাটতি।
২৫. প্রশ্ন: বিদ্রোহ কি সমগ্র ভারতজুড়ে হয়েছিল?
উত্তর: না, এটি মূলত উত্তর ও মধ্য ভারতে সীমাবদ্ধ ছিল।
২৬. প্রশ্ন: বিদ্রোহের পর কোন শাসনের অবসান ঘটে?
উত্তর: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
২৭. প্রশ্ন: এরপর ভারতে কার শাসন শুরু হয়?
উত্তর: ব্রিটিশ রানির প্রত্যক্ষ শাসন শুরু হয়।
২৮. প্রশ্ন: ১৮৫৮ সালের কোন আইনে পরিবর্তন হয়?
উত্তর: ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮।
২৯. প্রশ্ন: সেনাবাহিনীতে কী পরিবর্তন আনা হয়?
উত্তর: ভারতীয় সৈন্যের সংখ্যা কমিয়ে ইউরোপীয় সৈন্য বাড়ানো হয়।
৩০. প্রশ্ন: বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?
উত্তর: এটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে তোলে।
৩১. প্রশ্ন: সিপাহি বিদ্রোহে ধর্মীয় কারণ কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
উত্তর: ব্রিটিশরা ভারতীয় ধর্মীয় বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ করায় ক্ষোভ তৈরি হয়।
৩২. প্রশ্ন: এনফিল্ড রাইফেল কী?
উত্তর: ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত নতুন ধরনের বন্দুক।
৩৩. প্রশ্ন: কার্তুজ মুখে কাটতে হত কেন?
উত্তর: বন্দুক চালানোর আগে কার্তুজ দাঁত দিয়ে ছিঁড়তে হত।
৩৪. প্রশ্ন: কার্তুজে কী ধরনের চর্বি ব্যবহৃত ছিল বলে ধারণা ছিল?
উত্তর: গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের গুজব ছিল।
৩৫. প্রশ্ন: এটি হিন্দুদের কাছে আপত্তিকর কেন ছিল?
উত্তর: গরু হিন্দুদের কাছে পবিত্র প্রাণী।
৩৬. প্রশ্ন: এটি মুসলমানদের কাছে আপত্তিকর কেন ছিল?
উত্তর: শূকর মুসলমানদের ধর্মে নিষিদ্ধ।
৩৭. প্রশ্ন: ব্যারাকপুর কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এখানেই বিদ্রোহের প্রথম প্রকাশ ঘটে।
৩৮. প্রশ্ন: মিরাটের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: মিরাট থেকে বিদ্রোহ দ্রুত দিল্লিতে ছড়ায়।
৩৯. প্রশ্ন: দিল্লি বিদ্রোহের কেন্দ্র কেন হয়?
উত্তর: মুঘল সম্রাটের উপস্থিতির জন্য দিল্লি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
৪০. প্রশ্ন: বিদ্রোহীরা কাকে ভারতের সম্রাট ঘোষণা করে?
উত্তর: বাহাদুর শাহ জাফরকে।
৪১. প্রশ্ন: বাহাদুর শাহ জাফরের প্রকৃত ক্ষমতা কেমন ছিল?
উত্তর: তাঁর ক্ষমতা প্রতীকী হলেও প্রভাব ছিল গভীর।
৪২. প্রশ্ন: কানপুর বিদ্রোহের গুরুত্ব কী?
উত্তর: এখানে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
৪৩. প্রশ্ন: নানা সাহেব কে ছিলেন?
উত্তর: শেষ পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাওয়ের দত্তক পুত্র।
৪৪. প্রশ্ন: নানা সাহেব কেন ক্ষুব্ধ ছিলেন?
উত্তর: ব্রিটিশরা তাঁর পেনশন বন্ধ করে দেয়।
৪৫. প্রশ্ন: ঝাঁসি কেন বিদ্রোহে যোগ দেয়?
উত্তর: ঝাঁসির রাজ্য ব্রিটিশরা দখল করেছিল।
৪৬. প্রশ্ন: ঝাঁসির রানি কেন ইতিহাসে অমর?
উত্তর: তিনি অসাধারণ সাহসের সঙ্গে যুদ্ধ করেন।
৪৭. প্রশ্ন: “আমি আমার ঝাঁসি দেব না”—উক্তিটি কার?
উত্তর: ঝাঁসির রানি লক্ষ্মী বাঈ-এর।
৪৮. প্রশ্ন: লখনউ বিদ্রোহে কে নেতৃত্ব দেন?
উত্তর: বেগম হযরত মহল।
৪৯. প্রশ্ন: বেগম হযরত মহলের অবদান কী?
উত্তর: তিনি আউধে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন জোরদার করেন।
৫০. প্রশ্ন: বিহারে বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর: জমিদার ও কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
৫১. প্রশ্ন: কুনওয়ার সিং কে ছিলেন?
উত্তর: বিহারের একজন প্রবীণ কিন্তু সাহসী বিদ্রোহী নেতা।
৫২. প্রশ্ন: তাতিয়া টোপির কৌশল কেমন ছিল?
উত্তর: গেরিলা যুদ্ধ ও দ্রুত আক্রমণ।
৫৩. প্রশ্ন: বিদ্রোহে মুসলিমদের ভূমিকা কেমন ছিল?
উত্তর: মুসলিম গাজীরা সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেয়।
৫৪. প্রশ্ন: বিদ্রোহে হিন্দুদের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: হিন্দু সিপাহি ও রাজারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৫৫. প্রশ্ন: বিদ্রোহ কি জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করেছিল?
উত্তর: হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের বিরল দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।
৫৬. প্রশ্ন: ব্রিটিশদের শক্তির মূল উৎস কী ছিল?
উত্তর: আধুনিক অস্ত্র ও সংগঠিত সেনাবাহিনী।
৫৭. প্রশ্ন: বিদ্রোহীদের দুর্বলতা কী ছিল?
উত্তর: সমন্বিত নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার অভাব।
৫৮. প্রশ্ন: বিদ্রোহীরা কি কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করতে পেরেছিল?
উত্তর: না, তারা একটি শক্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গড়তে পারেনি।
৫৯. প্রশ্ন: পাঞ্জাব কেন বিদ্রোহে যোগ দেয়নি?
উত্তর: শিখরা ব্রিটিশদের সমর্থন করেছিল।
৬০. প্রশ্ন: নেপালের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: নেপাল ব্রিটিশদের সামরিক সহায়তা দেয়।
৬১. প্রশ্ন: কোন কোন রাজ্য বিদ্রোহ থেকে দূরে ছিল?
উত্তর: হায়দ্রাবাদ, কাশ্মীর, রাজপুতানার অনেক রাজ্য।
৬২. প্রশ্ন: বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশ নীতি কেমন ছিল?
উত্তর: অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও দমনমূলক।
৬৩. প্রশ্ন: সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব পড়ে?
উত্তর: ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পত্তি ধ্বংস হয়।
৬৪. প্রশ্ন: বিদ্রোহ দমনের পর কী পরিবর্তন আসে?
উত্তর: প্রশাসনিক ও সামরিক সংস্কার হয়।
৬৫. প্রশ্ন: ১৮৫৮ সালের আইন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটায়।
৬৬. প্রশ্ন: কোম্পানির পরিবর্তে কে শাসন শুরু করে?
উত্তর: ব্রিটিশ রানি ভিক্টোরিয়া।
৬৭. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের কী হয়?
উত্তর: মুঘল সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন ঘটে।
৬৮. প্রশ্ন: বাহাদুর শাহ জাফরের পরিণতি কী হয়?
উত্তর: তাঁকে বন্দি করে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।
৬৯. প্রশ্ন: সেনাবাহিনীতে কী পরিবর্তন আনা হয়?
উত্তর: ভারতীয় সৈন্যের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়।
৭০. প্রশ্ন: “Divide and Rule” নীতি জোরদার হয় কেন?
উত্তর: ভবিষ্যৎ বিদ্রোহ ঠেকানোর জন্য।
৭১. প্রশ্ন: জমিদারি ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর: ব্রিটিশরা জমিদারদের বেশি সতর্কভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
৭২. প্রশ্ন: বিদ্রোহ কি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনতা দেয়?
উত্তর: না, কিন্তু ভবিষ্যৎ আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে তোলে।
৭৩. প্রশ্ন: জাতীয়তাবাদের বিকাশে এর ভূমিকা কী?
উত্তর: ভারতীয়দের মধ্যে ঐক্যের চেতনা জাগায়।
৭৪. প্রশ্ন: বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ নীতি কেমন হয়?
উত্তর: তুলনামূলকভাবে সাবধান ও কৌশলী।
৭৫. প্রশ্ন: শিক্ষানীতিতে কী প্রভাব পড়ে?
উত্তর: ইংরেজি শিক্ষার প্রসার বাড়ে।
৭৬. প্রশ্ন: ভারতীয় ইতিহাসে বিদ্রোহের স্থান কী?
উত্তর: স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম বৃহৎ প্রচেষ্টা।
৭৭. প্রশ্ন: কেন একে মহাবিদ্রোহ বলা হয়?
উত্তর: ব্যাপক অঞ্চল ও জনগণের অংশগ্রহণের জন্য।
৭৮. প্রশ্ন: সব ঐতিহাসিক কি একে স্বাধীনতা যুদ্ধ বলেন?
উত্তর: না, মতভেদ রয়েছে।
৭৯. প্রশ্ন: ব্রিটিশ ঐতিহাসিকরা একে কী বলতেন?
উত্তর: সিপাহি মিউটিনি বা সামরিক বিদ্রোহ।
৮০. প্রশ্ন: ভারতীয় ঐতিহাসিকরা কেন একে স্বাধীনতা যুদ্ধ বলেন?
উত্তর: কারণ এর লক্ষ্য ছিল বিদেশি শাসনের অবসান।
৮১. প্রশ্ন: বিদ্রোহের প্রধান শিক্ষা কী?
উত্তর: ঐক্য ও সংগঠিত নেতৃত্বের গুরুত্ব।
৮২. প্রশ্ন: পরবর্তী আন্দোলনে এর প্রভাব কী?
উত্তর: কংগ্রেস ও জাতীয় আন্দোলনের পথ প্রস্তুত করে।
৮৩. প্রশ্ন: ১৮৫৭ বিদ্রোহ কি সম্পূর্ণ ব্যর্থ ছিল?
উত্তর: সামরিকভাবে ব্যর্থ হলেও ঐতিহাসিকভাবে সফল।
৮৪. প্রশ্ন: বিদ্রোহে নারী অংশগ্রহণের গুরুত্ব কী?
উত্তর: নারীর সাহস ও নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন।
৮৫. প্রশ্ন: লক্ষ্মী বাঈ কীভাবে শহীদ হন?
উত্তর: গ্বালিয়রের যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেন।
৮৬. প্রশ্ন: বিদ্রোহের স্মৃতি আজ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: স্বাধীনতার মূল্য বোঝার জন্য।
৮৭. প্রশ্ন: বিদ্রোহ ভারতীয় সমাজকে কীভাবে বদলায়?
উত্তর: রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ায়।
৮৮. প্রশ্ন: বিদ্রোহের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক কী ছিল?
উত্তর: হিন্দু-মুসলিম ঐক্য।
৮৯. প্রশ্ন: সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কী ছিল?
উত্তর: সর্বভারতীয় সংগঠনের অভাব।
৯০. প্রশ্ন: বিদ্রোহের ফলাফল কীভাবে ভারত শাসন বদলায়?
উত্তর: কোম্পানি শাসনের পরিবর্তে ব্রিটিশ রাজ প্রতিষ্ঠা।
৯১. প্রশ্ন: ব্রিটিশ রাজ কী?
উত্তর: সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের শাসনব্যবস্থা।
৯২. প্রশ্ন: প্রশাসনে ভারতীয়দের ভূমিকা কী হয়?
উত্তর: সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত অংশগ্রহণ।
৯৩. প্রশ্ন: বিদ্রোহের পর সেনাবাহিনীতে কোন জাতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়?
উত্তর: শিখ ও গুর্খাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৯৪. প্রশ্ন: বিদ্রোহের স্মরণে আজ কী করা হয়?
উত্তর: ইতিহাস বই ও স্মৃতিচারণায় শ্রদ্ধা জানানো হয়।
৯৫. প্রশ্ন: ১৮৫৭ বিদ্রোহ কেন পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: আধুনিক ভারতের ইতিহাসের ভিত্তি হওয়ায়।
৯৬. প্রশ্ন: বিদ্রোহ ভারতীয়দের কী শিখিয়েছিল?
উত্তর: স্বাধীনতা সংগ্রাম দীর্ঘ ও কঠিন।
৯৭. প্রশ্ন: এটি কেন গণ-অভ্যুত্থান বলা হয়?
উত্তর: সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণের জন্য।
৯৮. প্রশ্ন: বিদ্রোহে কৃষকদের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: তারা ব্রিটিশ অত্যাচারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলে।
৯৯. প্রশ্ন: বিদ্রোহ কি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ছিল?
উত্তর: না, এটি মূলত স্বতঃস্ফূর্ত ছিল।
১০০. প্রশ্ন: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের ঐতিহাসিক মূল্যায়ন কী?
উত্তর: এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম মহান অধ্যায়।
Follow Toppers Track for daily updates 📢


